13/5/25 “আমি কে?”
প্রশ্ন কেবল একটাই --
জানতে চাই এই টুকু – “আমি কে?”
রাতদিন এই প্রশ্ন করি।
নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করি।
তবুও ভাবি--কে --এই নিজে টা-- কে
কে এই নিজে, কাকে প্রশ্ন করি????
এই ভাবনার পাইনা কুলকিনারা।
যে কাজ, যে চিন্তা, যে অনুভব – যার মধ্যে দিয়েই যাই,
মন বলে সেই মুহূর্তকে ভেসে যেতে দিও না, নিজেও ভেসে যেও না। প্রশ্ন করো – “কে চিন্তা করছে?”
কে অনুভব করছে?”
কে দুশ্চিন্তা করছে?”
কে সংশয়ে ভুগছে?”
কে প্রশ্ন করছে?”
করো সর্বদা কিছু করো। চেষ্টা করো।
থেমে থাকছি না।
অবশ্য থেমে থাকা যায়না।
কর্ম না করে কেউ এক মুহূর্ত ও থাকতে পারে না।
মন বলছিলো, তাই মনের কথা
শুনেছিলাম।
দীক্ষা নিয়েছিলাম, গুরুও করেছিলাম
অনেক বার । যাকে যখন ভালো লেগেছিলো তাকেই গুরু করেছিলাম।
জপ ধ্যান, মন্ত্র তন্ত্র অনেক শিখেছিলাম।
অনেক অভ্যাসও করেছিলাম।
অনেক মানুষের অনেক উপকার করতে চেষ্টা করেছিলাম। বেশ কিছু মানুষ উপকৃত হয়েছে। দুইএকজনের বেলায় অকৃতকার্য ও হয়েছি।
অকৃত কার্যতার কারণও বুঝতে পেরেছি।
যাদের মনে ছিল সামান্য তমও সংশয় তারাই রইলো অসহায়।
তাদের মনে ছিলনা বিশ্বাস তাই তারা আজও ভুগছে হতাশায়।
বহু বৎসর পরে শ্রেদ্ধেয় এক মহান গুরুর নির্দেশে সকল কিছুই বিসর্জন দিয়ে মুক্ত হয়ে ছিলাম।
আবার নুতন করে দীক্ষা নিলাম।
খানিক মন শান্ত হোল।
পার্থিব যা চাইলাম সবই পেলাম।
আনন্দ ফুর্তি সাংসারিক সকল কিছুই পেলাম।
কিন্তু মনের শান্তি কোথাও পেলাম না।
তাই আজ প্রশ্ন করছি ।
এই শরীর কে প্রশ্ন করছি , মনকে প্রশ্ন করছি। কে আমি? কে আমি?
এই জগতে কি কাজ আমার।
কেন আমি জন্মালাম।
জন্ম জখন হয়েছে , উদ্যেশ্য নিশ্চিত কিছু আছে।
উদ্যেশ্য ছাড়া কিছুই উদ্ভব হয় না।
তবে আমি কে?
কি আমার উদ্যেশ্য?
কেন আমাকে আনা হয়েছে?
জন্ম থেকে আজ 74 বৎসর, কিছুইতো কিরিনি। শুধু নিজের চিন্তাই কিরেছি।
নিজের চাওয়াই চেয়েছি।
যখন চেয়ে ছিলাম, তখন পেয়ে আনন্দিত হয়েছিলাম। আজ বুঝতে পারছি সেদিনের সে চাওয়া আর পাওয়া সকলি বৃথা।
সকলি সামহিক সুখ। সেই সামহিক সুখই আজ দুঃখের কারণ।
অতএব বুঝিনা সুখ কি কেন , সুখের জন্য এতো পরিশ্রম ?
আসলে এখন বুঝতে পারছি, যে
"আমি"-- বলে কিছুই নাই এই ধরিত্রীর মাঝে।
"আমি"--শুধুই এক অহঙ্কার।
"আমি"--অহঙ্কারেই জীবনের ব্যর্থতা।
তাইতো ভাবনা এই আমি যদি অহঙ্কার হয় তবে এই আমি কে?
এই শরীর টা, কি মন টা, কি বোধটা, কি চিন্তা টা,-- আমি কোনটা???
আজ আমি, আমাকে-- "আমি"-কে খুঁজতেই ব্যর্থ আমি।
ব্যর্থতাই বুঝি আষ্টে পিষ্টে ঘিরে আছে।
শরীর, মন, বুদ্ধি, সকল কে, জর্জরিত করছে দিবা-রাত্র।
ব্যর্থতা ছাড়া কিছুই পাইনি জীবনে।
যাকে একদিন সুখ বলে ভাবতাম
সেও নিতান্ত ব্যর্থতা।
ব্যর্থতায় পূর্ন জীবনে,
সবকিছু হারিয়ে-- খুঁজে মরি নিজেকে,
আর--কিছু খুঁজলেই দেখি অন্ধকার,
অন্ধকারের পরেই আছে আলোর ঝলক।
কিন্তু এই অন্ধকার পার করতে পারলেই হয়তো আলোর দেখা পাবো, এমনিই সকলে বলে।
কে জানে আর কতদিন ঘুরবো আমি 'চোখ বাঁধা কলুর বলদের মতন।'
এখন তো দেখি চারিদিকে অন্ধকার,
জপ ধ্যান বাড়িয়ে ছিলাম,
তবে এখন আর করিনা---- কি হবে ওসব করে।
অন্ধকার পার হবে কি করে,
সে-ই ভাবনাতেই দিন কাটে।
No comments:
Post a Comment