Friday, March 8, 2019

।।-একদিনের গল্প -।।--01/03/2019::-02:12:18am

।।-একদিনের গল্প -।।--২৭/১১/২০২০::-02:12:18am
                 <--©➽--আদ্যনাথ-->
খাবার লোভ টা চিরদিনই আমার একটু বেশি। খাবারের লোভে ছুতে যাই নানান স্থানে। সেদিন ১৯৬৮সাল মনে আছে ,আর চিরদিন মনে থাকবে,কিন্তু দিনতারিখ মনেনাই , যেটুকু মনেআছে সেইটুকুই লিখতে বসেছি। সেদিন  ৪-৫দিন ধরে বেশ ভালো বৃষ্টি হচ্ছিলো  তাই ইলিশ মাছ খেতে ইচ্ছা করছিল ,আর সাথে সাথে টাকির রহমানের কথা মনে পড়লো।বসিরহাটে আমাদের পরিচিত এক  ঘরামী সম্ভূকাকুর  
মারফত এই রহমানের সাথে আলাপ।  রহমানের বাড়ি ইছামতি নদীর কাছে। ওদের   নিজের নৌক আছে, আমি বেশ কয়েকবার ওর বাড়িতে গিয়ে রহমানের বাবার সাথে  ইছামতি নদীতে নৌকায় ঘুরেবেরিয়েছি। তাই সেদিন ও ওই ইলিশ মাছ খাবার লোভে পৌঁছে গিয়েছিলাম টাকিতে। প্রত্যের বার বসিরহাটে গিয়ে সম্ভূকাকুর ছেলে শঙ্কর আর আমি দুজনে পৌঁছে যেতাম রহমানদের বাড়িতে। আবার বিকেলের দিকে  বাসে করে ফিরে  আসতাম। কোন কারনে  দেরি হয়ে গেলে রাত্রে শঙ্করদেড় বাড়িতে থেকে সকালে  ফিরে আসতাম।   
ইছামতি নদীতে নৌকার দিনভর মাছ ধরা আর  ঘুরে বেড়ানোর সেকি আনন্দ , সেকথা ভাষায় প্রকাশ করা বাড়ি কঠিন। 
ইছামতী এক আন্তঃদেশীয় নদী যা ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক সীমানা হিসাবে কাজ করে।
ইছামতি নদী দুইবাংলার সামাজিক-সাংস্কৃতিক ইতিহাস ও সাহিত্যে গভীরভাবে জায়গা করে নিয়েছে। মোগল শাসনকালে বিখ্যাত ‘বারো ভূঁইয়াদের’ (১২ জন স্থানীয় রাজা)একজন রাজা প্রতাপাদিত্যের সাম্রাজ্য এই নদীর পাশে অবস্থিত ছিল। 

বিখ্যাত সাহিত্যিক  বিভূতিভুষন বন্দ্যোপাধ্যায় এর বাড়ি বনগাঁতে ইছামতি নদীর তীরে ছিল। 
তিনি  তাঁর  সাহিত্যে ইছামতি নদীটিকে অমর করে গেছেন । ইছামতী কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম প্রিয় নদী ছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর , মাঝে মধ্যেই এই নদীপথে তাঁর জমিদারি তত্ত্বাবধানের কাজে শিলাইদহ যেতেন এবং এই যাত্রাগুলির সময় তিনি অসংখ্য চিঠি, কবিতা এবং গান রচনা করেছিলেন। 
এইসকল কারণেই বলছিলাম যে ইছামতি তে নৌকা ভ্রমণের বর্ননা করা আমার কর্ম নয়। 
ইছামতির এক পারে ভারত আর অপর পারে পূর্ব বাংলা ( তখন বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি )।