Thursday, May 30, 2024

20> সহ্যের অধিকার || লিখতে হবে।

        || সহ্যের অধিকার || লিখতে হবে।

কি-হবে ব্যথার ঔষধ লাগিয়ে পায়ে,

সে ব্যাথা কি দূর হবে----

যে ব্যাথা লেগেছে হিয়ায়।

মরমে মরিতেছে দিবা নিশি,

পেয়ে হৃদয়ে দরুন ব্যাথা।

কি করে কাউকে  বুঝাইবে, 

কিসেরই-বা বুঝা বুঝি হইবে আর।

প্রদীপ,দিবা নিশি ভাবে সেই কথা

নিরালায় বসে আজ এমলা।

প্রদীপ হালদার 

অতি শান্ত ছেলেটি, প্রিয় ছিল সবার,

আজ প্রদীপকে মনেপোরে বার বার।


এইতো সেদিন কথা হচ্ছিল ওর সাথে আমার।

হঠাৎ দেখি উদাস মনে বসে আছে

পুকুরের পারে।

আমিও গিয়ে বসলাম ওর পাশে,

আমাকে দেখেই ও অবাক,

আমার প্রশ্ন ছিলো কেন এতো উদাস।


বাচিবার স্বাদ হারিয়েছি কবে,

তবুও এতো ভাবনা কেন করা তবে।

আজ সকলি গেছে দূরে,

তাইতো আজ বসে হতাশাভরে।


আজ হারাতে চাই নিজের ঠিকনা,

ভুলতে চাই নিজে, নিজের ছবি খান।

ভুলতে চাই যা আছে আপন সকল,

আজ বুঝেছি যা ছিল সকলি বুঝি নকল।


তাই পথ হারিয়ে নিজেকে হারাতে চায়,

অনেক পেয়েছে আর চাওয়ার কিছুই নাই।

যা চেয়েছে সকলি হয়তো ভুল করে পেয়েছে,

যা পেয়েছে ভুলের ভাবনাতে ডুবে বুঝি চেয়েছে।


যেদিন সিঁদুরটা শিথিতে দেওয়া, 

সেই থেকেই শুরু হয় লেন দেন,

দেওয়া নেওয়া। 

তারপর থেকেই সব দিতে হয়েছে ওকে। কী কী দিয়েছে কখন দিয়েছে হাতে ধরে

কে-তার হিসাব নিকাশ রাখে।

হিসাবের পরিসংখ্যা বড়ই কঠিন।


************■■■■■■■★☆★★★★


এই প্রশ্ন আমার আগে নিজেকে জিজ্ঞাসা কর একবার।

প্রথম যেদিন তোমাকে নিয়ে এলাম আমার ঘরে, 

সেদিন আমি বলে ছিলাম  নতুন ঘর, নতুন সব,আজ থেকে নতুন করে শুরু দুটি জীবন এক হয়ে থাকার, একটি ঘর বাঁধবার।

সেদিন বুঝেছিলাম নিজের ভুল

তবুও করতে পারিনি প্রতিকার,

ওই একটি বুড়ো অসহায় বাপ কে দেখে,

ওর ভাইদের দেখে রাগ হতো ভীষণ,

কিন্তু কোন প্রতিকার করতে পারিনি সত্য,

মিথ্যে প্রতিশ্রুতি, মিথ্যে সাজানো তথ্য।


জীবনে হার মানিনি 

হার মানতে চাইনি অন্যায় অকারণে।

যেকারনে ছেড়েছিলাম ঘর পাইনি ভয়,

সেদিনও পাইনি ভয়,

সেরফাদের নিষেধ অবজ্ঞা করেও

ক্লাইমব করেছিলাম হিমালয়

পর করেছিলাম ভয়াবহ রক,

সেদিন এটাচমেন্ট ক্যাম্পে 

রাইফেল শুটিংয়ের প্রতিযোগিতায়

সব বেটেলিয়ান হার মানলেও 

আমি জিতে নিয়েছিলাম পুরস্কার।

তবুও আমি ছাড়তে পারিনি সংসার

ওই বুড়ো মানুষটার দিকে তাকিয়ে,

কেন জানিনা প্রথম দিন থেকেই 

যেমন যেন মায়ার টানে আটকে ছিলাম,

তাইতো নিজেকে সামলে নিয়েছিলাম।


তার পর থেকেই কেটেছে সুন্দর কতোগুলি  দিন কতোবিচিত্র রাত। 

যদিও আমি দূরে দুরেই থাকতাম।

এমনি করেই পার করেছি আমরা 43টি বৎসর।

জানি সেদিন তুমি অনেক কিছুই ছেড়ে এসে নুতন করে সংসার গড়ে তুলেছো ।

মেয়ে ও ছেলেকে বড় করতে অমানুষিক পরিশ্রম করেছো।

জীবনের সব টুকু দিয়ে ওদের বড় করে তুলেছো।

43 বৎসর পরে আজ আমি বলবো একটু দেখো ভেবে, আমি কি কিছুই দেয়নি তোমাকে!

তুমিতো দিয়েছো অনেক, নিজেকেই বিলিয়ে দিয়েছো, আমার কারনে।

আমি কি কেবলই নিয়েছি স্বার্থপরের মতন।

তবে আমি সেদিনও বলেছি, আজও বলছি, আমি তো সব পেয়েছি, তোমাকে পেয়েই সব পেয়েছি।

আর-তো কিছুই চাইনি, 

যা চেয়েছি সবই পেয়েছি। না পাবার কিছুই নাই আমার জীবনে।


এই যে সন্তানরা যাদের জন্য তুমি নিজেকে উজাড় করে দিলে।

যদিও জানি মা হতে গেলে নিজেকে উজাড় করে হয় দিতে।

তাইতো বলছি আজ কি পেলে জীবনের সবটুকু দিয়ে ওই 'মা' ডাকটির ছাড়া,

জানি 'মা' ডাক শোনাটাই শ্রেষ্ঠ পাওনা,

'মা', ওই ডাকটুকু ছাড়া কিছুই চায় না।

কিন্তু আমি, একটাই ছিল শান্তির নীড়,

তাও বুঝি ভেঙে গেল পুতুল খেলার ছলে।

সব পেয়েও বুঝি আজ হারাতে বসেছি নিজের ভুলে।

জানি আমার ভুলের হয়না মাফ,

তথাপিও চাইছি ক্ষমা।

জানি তোমাকে আর কাছে পাবোনা,

তুমি বলেছিলে পায়ের ব্যথার ঔষধ।

আমি জোগাড় তো কিরেছিলাম কিন্তু ব্যবহার করিনি। নিজেকে নিজেই আরো শাস্তি দিতে চাই।

এমনি কিরেই শেষ হয়ে যেতে চাই।

জানিনা কবে সেই সুদিন আসবে আমার, যেদিন বিদায় নেবো অজানা ঠিকানায়।

মৃত্যু কে তো দেখেছি ক্ষনিকের তরে খুব কাছে থেকে ।

মৃত্যও ফিরায়ে দিয়েছে আমাকে, বাড়ে বাড়ে।

তাইতো বুঝেছি সহজ পথ নাই, আমার এই ধরিত্রী মাঝে।

জানিনা কেন, কোন অপরাধে এখনো আছি বেঁচে।

কতো দুঃসাহসী কাজ করেছি,

মৃত্যুকে তাৎক্ষণিক অবহেলা করে,

সকলের চিৎকার হাহাকার করে,

বার বার ফিরে এসেছি বীরের অহঙ্কারে।

প্রতি বার সকলকেই য়েছে অবাক দেখে,

কি করে কেমনে ফিরলাম অক্ষত দেহে,

ছিলাম নির্ভয়, মৃত্যকে অবহেলা করে,

আজ অপেক্ষা শেষ ইচ্ছা পূরণের তরে।


আজ বুঝেছি মৃত্যুই চির সত্য চির সুন্দর,

তাকে নাগালে পাওয়াই কঠিন দুষ্কর,


===========================

মনোবৈভব


মনোবীক্ষণ