|| নাগা মহিলা, নাগা হবার প্রক্রিয়া ||
এক নাগা সন্যাশিনীর মুখথেকে শোনা কথাই লিখছি-----
2001 সালের 9 জানুয়ারি থেকে 21ফেব্রুয়ারি প্রয়াগে কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
এই মেলাটি উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে গঙ্গা, যমুনা, এবং সরস্বতী নদীর মিলনস্থলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
প্রয়াগে কুম্ভ মেলা 2001-এর বিশেষত্ব:
এই মেলাটি জ্যোতিষশাস্ত্রীয় গ্রহের সারিবদ্ধতার সাথে মিলেছিল।
এই মেলাটি সহস্রাব্দে প্রথম ছিল।
এই মেলায় প্রায় 70 মিলিয়ন দর্শনার্থী আসে।
এই মেলায় স্বামী সত্যানন্দ মকর সংক্রান্তি এবং মৌনী অমাবস্যায় সঙ্গমে পবিত্র ডুব দেন।
এই মেলায় এক নাগা সন্যাশিনীর সাথে অনেক আলাপ আলোচনার সুযোগ হয়েছিল ।
আজ আমি সেই কথার কিছু তুলে ধরছি।
বাকি কিছু কথা বলা বা লেখার নিষেধ আছে।
যেটুকু মনে আছে সেটুকুই লিখছি:::-------
মহিলা দের নাগা সাধু হবার জন্য বড়ই কঠিন পথ ও কঠিন নিয়ম পালন করতে হয়।
অতি ভীষণ ব্রহ্মচর্য পালন করতে হয়।
গুরুজীর নিকট নিজের যোগ্যতার প্রমান তথা ঈশ্বরের প্রতি একাত্মতা ও নিষ্ঠার পরীক্ষা দিতে হয়।
এই সকল প্রক্রিয়ায় 10- থেকে 15 বৎসর লেগে যায়।
মহিলা নাগা সাধু হবার জন্য 10 বৎসর বা তার অধিক সময় ব্রহ্মচর্য পালন করতে হয়। মহিলা নাগা সাধু হবার প্রক্রিয়া এমন কঠিন প্রক্রিয়া যে অনেক জনই মাঝ পথে সাধনা ত্যাগ দিয়ে গার্হস্থ্য জবনে ফিরে যায়। কারন এমন কঠিন সাধনা করা সকলে দ্বারা সম্ভব হয় না।
মহিলা নাগাসাধু সাধারণত লোকচক্ষুর আড়ালে বনে জঙ্গলে বা নিজের আখড়াতেই থাকেন। কুম্ভ বা মহাকুম্ভে সময় এনদের দেখাযায় কুম্ভ মেলায়। মহিলা নাগা সাধু হতে নিজের শ্রাদ্ধ , নিজের পিন্ড দান ও মস্তক মুন্ডন করতে হয়। নিজেকে সম্পুর্ন রূপে ঈশ্বরের নিকট সমর্পণ করতে হয়।
প্ৰয়াগরাজে মহাকুম্ভ শুরু হতেই মহিলা নাগা সাধুদের নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থার প্রস্তুতি ছিল। মহাকুম্ভে মহিলানাগা সাধু বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিলেন।এবার অনুমান হাজারেরও বেশি নাগা সন্যাশিনীর দীক্ষা অনুষ্ঠান হয়েছে। তবে জুনা আখরাতেই মহিলানাগাসাধুর সংখ্যা সর্বাধিক। মহিলা নাগা সাধু হতে বড়ই কঠিন প্রক্রিয়া পার করতে হয়।
মহিলা নাগাসাধুদের 'নাগিন', 'অবধুত', 'মাই' ইত্যাদি নামে অভিহিত করা হয়।
অবধূতনিকেই শ্রীমহান্তের পদ দেওয়া হয়।
জুনা আখড়া 2013 সালে মাইওয়ারা কে
দোষনামি সন্যাশিনীর আখড়া হিসাবে মান্যতা প্রদান করা হয়। এনদের শিবির জুনা আখড়া শিবিরের ঠিক পাশেই রাখা হয় থাকে।
মাই অথবা অবধুতনীদের আখরা' থেকেই 'শ্রীমহন্তের' পদ প্ৰদান করা হয়।
'শ্রীমহন্তের' পদে নির্বাচিত সাধ্বী মহিলা সাধু শাহী স্নানের দিন পালকি চড়েই স্নানে যান নিজের আখড়ার ধ্বজা উঁচিয়ে, ডঙ্কা
বাজিয়ে সদলবলে।এমনটাই অনুমদন করা হয়।
নাগা সন্যাশিনীর হবার জন্য ভিষিন কঠিন প্রক্রিয়া পার করতে হয়।
মহিলার ঘর-পরিবারের ভীষণ ভাবে যাচাই করা হয়। তারপরে তাকে প্রমান দিতে হবে যে তিনি সকল মোহ মায়া ত্যাগ করতে সক্ষম। এভাবে ব্রহ্মচর্য পসলনে ব্রতী হয়ে , সকল পরীক্ষা নিরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার পর গুরু নিজে সন্তুষ্টির পরে সন্যাস ব্রত পালনের আদেশ দেন।
তার পরে নিজের শ্রাদ্ধ, নিজের পিন্ড দান, মুন্ডনের ও নদী স্নান করে নিজের সকল বস্ত্র ত্যাগ করে গুরুজীর দেওয়া ভুভুত ও গেরুয়া এক বস্ত্রেই নিজের দেহ আবরণ করতে হয় এবং এর পরে দীক্ষা দেওয়া হয়। ভুভুত সারা অঙ্গে লেপন করে এক বস্ত্রেই থাকতে হয়। স্নানাদি ওই এক বস্তের করতে হয়।
পিন্ড দানের পরে গুরুজী প্রথমে কমন্ডুল দেবেন , সেই কমন্ডুল নিয়ে সমস্ত দিন জপ ধ্যান ও ব্রহ্মমুহূর্তে শিবের জপ মরতে হয় তারপরে আখড়ার গুরু তথা আখড়ার
ইষ্টদেবের পূজা ও জপ ধ্যান করতে হয়।
এর পরেই গুরুজী নুতন শিষ্যার নামকরণ করে 'মাতাজী' নামে সম্মানিত করেন।
দীক্ষা দানের পূর্বে গুরুজী তিনবার জিজ্ঞাসা করেন যে তার কোন মায়া মোহ আছে কিনা এবং সে চলে এখনই নিজের গৃহে ফিরে যেতে পারেন।
এমন ভাবে তিনবার তার পরীক্ষা নেওয়া হয় যাতে করে তার মধ্যে কোন প্রকার কখন অনুশোচনার তিল মাত্র না থাকে,
এবং এই নুতন জীবন যেন দৃঢ়তার সাথে পালন করতে সক্ষম হন।
তবেই দীক্ষা দানের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
========================
No comments:
Post a Comment