Wednesday, February 27, 2019

11> ||--দাদু ভাই--||

||--দাদু ভাই--||
            <--©➽--আদ্যনাথ-->

দাদু ভাই, দাদুভাই দুবার ডাক শুনেই আমরা ছুটে যেতাম উঠোনে, মা ও আসতেন আমাদের সাথে।
প্রত্যমেই আমরা জানতে চাইতাম কোথা থেকে আসলো বাজার, দোকান, কোথায় কি হোল,মা জানতে চায় অনিমারা (আমাদের মাসি) কেমন আছে এবং একটু গল্প শুনতে চাইতাম আমরা ওনার কাছে।
হিন্দিমিশ্রিত বাংলায় কথা বলতো। কত গল্পই না জানতো। কি সুন্দর করে বলতো।

হ্যা এই দাদুভাই আর কেউনয় একজন মহিলা ভিখারিনী রূপেই সকলের  কাছে পরিচিত। তবুও আমরা কোনদিন
ভিখারি বলে ভাবতাম না, আমরা ভাবতাম উনি আমাদের মা এর কোন জানাশোনা বা আত্মীয়।


সম্ভবত তিনি বাঙালি ছিলেন না।
এখন বুঝতে পারি যতদূর মনেপরে ওনার কথা বলার টানে তিনি বিহার বিশেষত ছাপড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। এমনিতে মনেহবে তিনি ভিক্ষা কোরতেই আসতেন।
এই ভিক্ষা বৃত্তির আড়ালে তিনি এপার সেপাড়া ঘুরতেন ও আশেপাশে মা,মাসি দের ও ছেলে মেয়েদের খবরাখবর দিতেন।বেলঘড়িয়া থেকে আগরপাড়া, সোদপুর, আড়িয়াদহ,দক্ষিণেশ্বর এই বিস্তীর্ণ এলাকায় উনি ঘুরে বেড়াতেন, এবং এই সকল এলাকায় কার কোন আত্মীয় কোথায় থাকেন সে গুলি তার নখ দর্পণে ছিল।ফলে সকলের খবর সকলকে আদান প্রদান করতেন।এমনটা তার বিচিত্র স্বভাব।
সে সময়ে তো আর মোবাইল বা টেলিফোন ছিলোনা,
ফলে মা মাসিরা ভীষণ খুশি হতেন এই দাদু ভাই আসলে। আমরাও খুশি হোতাম রোজ নুতন নুতন গল্প শুনতে পাওয়ার কারণে । ওনার গল্প মানে রোজ যা খবর উনি জোগাড় করতেন সেগুলিকে ই সুন্দর করে বলতে পারতেন। এটা তার এক বিশেষ গুন। অতি সাধারন কথা গুলো এমন সুন্দর করে বলতে পারতেন যা শুনে সকলেই আনন্দ পেতাম। ওনার এই বলার ক্ষমতা ,তখন তো ছোট ছিলাম তাই খেয়াল করিনি। আজ যখন মনে পড়ে সেই কথা এখন বুঝতে পারি  উনি কি অসম্ভব ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। যেমন হয়তো মা জিজ্ঞাসা করলেন কিগো দাদু ভাই সরলা ( মানে আমার মাসি যিনি আগের পাড়ার দেশপ্রিয় নগরে থাকতেন) কেমন আছে।
উনি বলতেই পারতেন যে সরলা ভালো আছে। না উনি তেমন ভাবে বলতেন না উনি খুব ভালো করে নানান কথা জুড়ে এমন গল্প করে এই সামান্য সংবাদ টুকু দিতেন যা আজ ভাবলে অবাক হয়ে যাই।
এই সামান্য একজন বিহারী দরিদ্র মহিলা যে সমস্ত দিন ঘুরে বেড়াতেন বাড়ি বাড়ি। উনি একবার আমার মায়ের কাছে আবদার করলেন চারটি জামা প্যান্টের। মা আদর করে আমাদের ভাল ভাল জামাপ্যান্ট গুলি দিয়ে দিলেন। আমরা প্রতিবাদ করতে পারলাম না, কারন দাদু ভাইকে দিচ্ছে, যিনি আমাদের ওভালো লাগার একজন। আমার মনে একটু খটকা লাগলো, তাই জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি এই জামাপ্যান্ট নিয়ে কি করবে। তিনি বলেছিলেন তোমাদের মতন আমার ঘরেও তিনটি দাদুভাই আছে। কিকরি বোলো নুতন জামাপ্যান্ট কোথায় পাবো , তাই তোমাদের গুলোই ওদের দেবো। আমি বললাম না না এগুলি পুরোনো জামা নয়। একদম নুতন , একদিনও আমি পড়িনি।

সে যাইহোক উনি সেগুলি আদর করে গুছিয়ে নিজের পোটলাতে রাখলেন।
ওনার পোটলাতে আরও জামা প্যান্ট ছিলো , যেগুলো দেখে আমার মনে একটু খটকা লেগেছিলো।
সেদিনের পরে বহু দিন ওনার দেখা পাইনি। একদিন মা কে জিজ্ঞাসা করলাম দাদুভাই কেন আসে না।
মায়ের সোজা উত্তর ,হয়তো আজকাল অন্যকোন দিগে যাচ্ছে । তাই এইদিগে আসার সময় পায়না।  
আমিও ভাবলাম মা হয়তো ঠিকই বলছে ,সেই কারনে আর কোন কথা বলিনি। 
এর বেশ কিছুদিন বাদে  মনে হয় কয়েক মাস বাদে আমি সোদপুরের নাটাগড়ে এক আয়ুর্বেদিক ডাক্তারের কাছে গিয়ে ছিলাম। 
আমার দিদিমার জন্য একটি ঔষধ আনতে। 
নাটা গড়ে গিয়ে জানলাম দিদিমার পরিচিত সেই বিশেষ ডাক্তার ( ধন্বন্তরী ) অনেক দিন আগেই দেহ  রেখেছেন, তাই ঔষধ আর নেওয়া হল না। 
আমি কি আর করি অগত্যা বাড়ি ফিরতে হবে , নাটাগড় থেকে হাঁটাপথে সোদপুর স্টেশনের দিকে আসছিলাম ,হঠাৎ দূরে দেখি সেই দাদুভাই একটা গলিতে ঢুকলো। আমি ভাবলাম উনি এখানে এই সন্ধে বেলায় কার বাড়িতে যাচ্ছেন। মনে একটু কৌতূহল নিয়ে তাড়াতাড়ি হেটে ওনার কাছে যাবার জন্য এগিয়ে চললাম। আমি তখন বেশ কিছুটা দূরে , দূরথেকেই দেখতে পেলাম উনি এগিয়ে যাচ্ছিলো ,হঠাৎ একটি ছেলে, আমার বয়সী হবে, ছেলেটি এসে দাদুভাইয়ের কাঁধ থেকে ঝোলাটা নিজের কাঁধে নিয়ে দাদু ভাইয়ের সাথে হেটে চলতে লাগলো। এমন ঘটনাটা আমার কৌতূহল আরও বেড়ে গেল ,এবং আমি ওদের পিছনে পিছনে চললাম। বেশ খানিকটা যাবার পরে  দেখি  ওরা  একটা ঘড়ে ঢুকলো। 
ঘরটা বেড়ার ,চালটা খড়ের। ঠিক আমাদের বাড়ির মতন ,তবে আমাদের বাড়ির মতন অত বড় ঘড় না.
আমি চুপচাপ ওদের পিছনে ওদের বাড়িতে ঢুকলাম। 
কি অদ্ভুত দাদু ভাই ঠিক আমাকে চিনতে পেরেছে। এবং চিনতে পেরে ভীষণ অস্থির হয়ে উঠল, তাড়াতাড়ি  আমাকে এখানে আসার কারন জিজ্ঞাসা করেই বললো আমি বাড়িতে বলেএসেছি কিনা !
তারপরে এমন অস্থির হয়ে উঠলো যেন আমি ওদের কত আপন , কি করে কি খাওয়াবে কোথায় বসবে এইসকল নিয়ে দাদুভাই অস্থির হয়ে উঠল। এরই মধ্যে দেখি আরও দুটি ছেলে এসে হাজির, দুজনেই খুব ছোট। আমি অনেক করে ওনাকে বুঝিয়ে বললাম আমার আসার কারন। 
তারপরে আমি জিজ্ঞাসা করলাম ওই ছেলে তিনটির ব্যাপারে। 
দাদুভাই কোন রকম দ্বিধা নাকরে বললো এড়াইতো আমার ছেলে। এইযে অরুন মানে  বড়ো  ছেলে ক্লাস এইটে পড়ে , বরুন মানে মেজটা ক্লাস ফাইভে পড়ে। আর এই ছোটকা ক্লাস থ্রি। তারপরে দাদুভাই বললো যে উনি ওদের জন্যই জামা প্যান্ট জোগাড় করে। 
এর পরের কাহিনী শুনে আমি দাদুভাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধায় চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি। 
এবারে পুরো ঘটনা বলছি -----
এই মহিলা অর্থাৎ আমাদের দাদুভাই এই সকল ছেলেদের কোথাওনা কোথাও কুড়িয়ে পেয়েছেন । 
তারপরে নিজে কোলে পিঠে করে অনেক যত্নে এদের  মানুষ করছেন। আর শুধু এরাই নয় এর আগেও আরোও দুটি ছেলেকে এমনি ভাবেই বড় করেছেন। তাদের একজন নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে পড়ে। আর একজন এখন চাকুরী করছে কলকাতা ট্রাম কোম্পানিতে। 
যে ছেলেটি চাকুরী করে সে প্রতি মাসে দেখা করতে আসে। সে এই বৎসর  পুরো ঘড় রিপেয়ার করে দিয়েছে। 
আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম তুমি একলা  কিকরে এতকিছু করো ?
দাদুভাই আমার কথায় খানিকটা উদাস চোখে দূরের  দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো এবং বললেন যে ওনার বাড়ি বিহারের সরন তথা  ছাপড়া জেলার কোন এক  গ্রামের পাড়াগাঁয়ে, সেই পাড়াগাঁয়ের নাম    উনি বলেছিলেন কিন্তু আমি আর মনে করতে পারছি  না।   ছোটবেলাতেই মা বাবা দুজনকেই হারায়।  
উনি বলছিলেন ওনার বাবা কোন এক দোকানে কাজ করেন। বাবা যে দোকানে কাজ করেন তারা গ্রামের মেলায় দোকান বসায়। বাবা সেই দোকানে মিষ্টি, গজা, নিমকি,জিলিপি ইত্যাদি বানান।
'সেদিন  মেলায় বাবার সাথে আমিও গিয়ে ছিলাম।তখন বোধহয় আমার বয়স পাঁচ কি ছয় বছর হবে। তিন দিন চলেছিল মেলা। মেলার শেষে সেদিন রাত্রে বাড়ি ফেরার সময় পথে হঠাৎ ভীষণ ঝড় উঠলো সাথে ভীষণ বৃষ্টি। বাবা আমাকে কাঁধে নিয়ে চলছিলেন। গ্রামের অন্ধকার পথে জল ঝড়ে  মাটির রাস্তা ,ধানক্ষেতের আল ধরে হাত পথ। হঠাৎ হঠাৎ ভীষণ ভাবে বাজ পড়ছিলো ও বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল  আমাদের সব জামাকাপড় ব্যাগ বাবার ছোট ব্যাগে রাখা টাকা পয়সা সব ভিজে একাকার। হঠাৎ কি করে কি হোল বাবার  পাপিছলে পরেগিয়ে অজ্ঞান হয়ে হয়ে গেলেন।
অন্ধকার রাত, বেশ জোরে বৃষ্টি হচ্ছিল।
তার উপরে  ভীষণ ভাবে বিদ্যুতের চমক সাথে ভীষণ মেঘের গর্জন, আমি ভয়ে বাবাকে জড়িয়ে কাঁদছিলাম। জলে কাঁদায় মাখা মাখি হয়ে কতক্ষন কেঁদেছিলাম জানিনা।
অন্ধকারে ভয় পেয়ে কখন যে জ্ঞান হারিয়ে ছিলাম সেটাও  জানিনা। আমার যখন জ্ঞান ফিরেলো  তখন আমি হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে। 
আমি এখানে কি করে এসেছি কারাইবা আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে কিছুই জানতে পারিনি। 
জ্ঞান ফিরতেই বাবার খোঁজ করছিলাম , কিন্তু হাসপাতালের কেউই কিছু বলতে পালনা। 
আমি বাবার জন্য খুব কাদঁতাম। কিন্তু বাবার কোন খোঁজ পাইনি। কয়েক দিন পরে আমাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দিয়েছিলো ,তবে বাঁপায়ে প্লাস্টার ছিল। 
জেনেছিলাম আমার বাঁ পায়ের হাড় ভেঙে গিয়ে ছিল। সম্ভবত বাবা যখন পরে গিয়ে ছিলেন  তখন আমি বাবার কাঁধ থেকে বেকায়দাতে পড়েযাওয়ার ফলে বাঁ পায়ের হাড় ভেঙে গিয়েছিলো। 
কিন্তু আমি আজও জানতে পারিনি কে বা কারা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করেছিল ,এবং আমার বাবার কি হয়েছিল বা বাবা কোথায় গেলেন ,এইসকল কোন খবরই আমি আজ অবধি পাইনি। 
তবে হ্যাঁ ওই হাসপাতালের এক মালি আমাকে নিয়ে ওনার ঘরে রেখে ছিলেন। 
ওই মালির আপন বলতে কেউ ছিলোনা ,তাই উনি আমাকে নিজের মেয়ের মতন খুব আদর যত্নে রেখেছিলেন। 
পায়ের প্লাস্টার কাটার পরে ধীরে ধীরে আমি ওনার বাড়ির সব কাজ কর্ম করতাম। 
আমি একটু বরো হতে একদিন কাউকে কিছু না বলে বাসে চড়ে নিজের বাড়ির উদ্দ্যেশে রওনা দিয়ে ছিলাম। কিন্তু বাস ভাড়া দিতে না পাড়ার জন্য আমাকে মাঝ রাস্তায় নামিয়ে দিয়ে ছিল।" 

সে নাহয় বুঝলাম কিন্তু তুমি সেই ছাপড়া থেকে এই সোদপুরে কিকরে আসলে?
দাদুভাই আবার কিছুক্ষন চুপ থেকে বললো
" সে অনেক কথা দিল্লি হয়ে বর্ধমান হয়ে এসে পৌঁছেছি এই সোদপুরের নাটাগরে।'
আমিও জিদ ধরে বসলাম যে আজ পুরো ঘটনা শুনে তবেই বাড়ি ফিরবো। তা না হলে বাড়ি ফিরবোই না।
আমার এমন কথা শুনে দাদুভাই অনেক অনুরোধ
করলেন আমাকে বাড়ি ফিরে যাবার।
আমিও জানি যে উনি যেকোন ছেলে মেয়েকে ভীষণ ভালো বসেন।
আমি বাড়ি ফিরবোনা এমন কথা বলতেই উনি ভীষণ চিন্তিত হয়ে বার বার আমাকে অনুরোধ করলেন তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে যাবার জন্য।
আমি যখন কোন ভাবেই বাড়ি ফিরবোনা এমন কথা শোনার পর উনি বাধ্য হয়ে বললেন।
" তবে শোন আমার সেই মর্মান্তিক ঘটনার কথা।
মানুষ যে কতটা অসৎ নীচ ও লোভী হতে পারে সে কথা তোমরা ভাবতেও পারবে না।
সেদিন ছাপড়া শহরের বাস থেকে পথের মাঝে আমাকে নামিয়ে দিলে আমি ভীষণ বিপদে পড়েছিলাম।
মাঝ রাস্থায় প্রচন্ড রোদের বেলায়, ভীষণ গরম ও প্রচন্ড রোদের তেজ। হাত মুখ জ্বলে যাচ্ছিল।
ভীষণ জল তেষ্টা ও খিদে পেয়েছে বুঝলাম। কিন্তু কি করি কোথায় যাই , কে বলেদেবে আমার বাড়ি কোথায় কতদূর!
আমি দিশে হারা হয়ে পথের মাঝে বসে ভাবছিলাম কোথায় যাবো, কিকিরে যাবো।
এমনি ভাবতে ভাবতে অনেক্ষন পর হয়ে গেল।
হঠাৎ কোথা থেকে একজন মোটর সাইকেল আল আমাকে দেখে  বললেন ' এই খুকি ইহা বৈঠকের কেয়া কর রাহি হায়।'  আমি আমার দুঃখের কথা তাকে শুনিয়ে গ্রামের বাড়ি পৌঁছে দেবার জন্য অনুনয় বিনয় কিরতে লাগলাম। মোটর সাইকেল আলা আমাকে আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন যে উনি আমাকে আমার বাড়িতে পৌঁছে দেবন ও আমার বাবাকে খুঁজে দেবেন।
আমিও ওনাকে বিশ্বাস করে ওনার গাড়িতে চড়ে ছিলাম।
উনি অনেক রাস্থা ঘুরিয়ে শেষে সন্ধের পরে একটি বাড়িতে নিয়ে গেল আমাকে। সেখানে এক বুড়ি মেয়ে ছেলে আমাকে বেশ আদর করে খাবার দিলো।
সেখানে আমার মতন আরো একজন ও আমার থেকে ছোটো আরো দুইজন ছিলো।
সেদিন রাত্রে খাবার পরে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।
হঠাৎ জখম ঘুম ভাঙলো তখন বুঝতে পারলাম আম ও আরও পাঁচটি মেয়ে ট্রাকে ঘুমোছিলাম।
কিন্তু কোন উপায় নাই কারন আমাদের সকলের হাত পা বাঁধা। আর লরিটাও খুব জোরে চলছিলো ।
লরির ভিতরে আমি ছাড়া কারুরই ঘুম ভাঙেনি। 
ঘুম ভাঙলেও সমস্ত শরীরে ব্যাথা। ঝিমুনি ভাব,একটুও নরা চড়া করতে পারছি না।
কতক্ষন ট্রাকে ছিলাম, বা কোথায় যাচ্ছি জানিনা ।
যখন ট্রাক টা থামলো তখন রাত্রি হয়ে গেছে।
ভীষণ খিদে পেয়েছিলো, সারাদিন একটুও জলও দেয়নি। 
এবার আমাদের সকল কে নামলো ।









No comments:

Post a Comment